আজ মহাঅষ্টমী

শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্যদিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে সপ্তমী পূজা। আজ শনিবার মহাঅষ্টমী। এদিন ভক্তরা বাসায় বসেই অঞ্জলি নিবেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি নেন। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার অঞ্জলি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে সরাসরি টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে। ভক্তদের বাসায় বসেই অঞ্জলি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে মহাসপ্তমীর দিন দুপুরে বিভিন্ন মন্ডপে করোনা মুক্তি এবং দেশ-জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ১২টা ১ মিনিটে অনুষ্ঠিত প্রার্থনা সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মন্ডল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বপন কুমার সাহা, কাজল দেবনাথ প্রমুখ উস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার নির্মল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, ‘সপ্তমী,অষ্টমী ও নবমী পূজার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। একই সময়ে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি, শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির নামের ফেসবুক পেজ থেকে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বাড়িতে বসেই এবার ভক্তরা মায়ের চরণে অঞ্জলি দেবেন বলে জানান তিনি। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকানুযায়ী আগামীকাল (আজ) সকাল ৫টা ১৬ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা প্রশস্তা ও মহা অষ্টমীর ব্রতোবাস শুরু হবে। এদিন সকাল ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ২৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজা। মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ অন্যান্য স্থানে এবার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।’

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এ বছর ঢাকায় কোনো মন্ডপে কুমারী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে না। তবে ঢাকার বাইরে কয়েকটি জায়গায় কুমারী পূজা হতেও পারে।’

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিধায় এবারের দুর্গোৎসবকে ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পূজামন্ডপ। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা। জনসমাগমের কারণে সাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই দুর্গা পূজায় আগেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চন্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ মহাঅষ্টমী পূজা, আগামীকাল রোবার সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে মহানবমী পূজা এবং আগামী সোমবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবী এসেছেন দোলায়, যাবেন হাতিতে চড়ে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সর্বশেষ দেওয়া তথ্য অনুসারে, এ বছর সারাদেশে ৩০ হাজার ২২৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারাদেশে দুর্গাপূজার মন্ডপের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। গতবছরের তুলনায় এবার ১হাজার ১৭৫ টি মন্ডপে পূজা কম হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগরে এ বছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা ২৩৩টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২৩৭টি। আর ঢাকা জেলায় পুজা হচ্ছে ৭৪০টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *